শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে তৃণমূলের উদ্যোগে মিলল বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাংসদদের বিপুল সাড়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার পরেই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের সমর্থনে এখনও পর্যন্ত প্রয়োজনের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের মূল অভিযোগ, বর্তমান নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ সহ বিজেপি বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলোতে ভোটের নির্ঘণ্ট স্থির, ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং রাজ্য পুলিসের রদবদল নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হচ্ছে না। সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ জ্ঞানেশ কুমার।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের সমর্থনে লোকসভায় স্বাক্ষর করেছেন ১২০ জন সাংসদ। আর রাজ্যসভায় ৬০ জন স্বাক্ষর করেছেন। অর্থাৎ,মোট ১৮০ স্বাক্ষর সংগ্রহ হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, সাংবি
ধানিক পদাসীন কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংসদের যে কোনও কক্ষে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার ক্ষেত্রে লোকসভায় কমপক্ষে ১০০ জন এবং রাজ্যসভায় কমপক্ষে ৫০ জন সাংসদকে সেই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করতে হয়। আর প্রস্তাব গৃহীত হলে, তা পাস করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন প্রয়োজন। কৌশলগতভাবে ১০০ জন বিরোধী সাংসদের স্বাক্ষর-সহ লোকসভায় জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে চেয়েছিল বিরোধী শিবির। তবে স্বাক্ষর সংগ্রহ হয়েছে তার চেয়ে বেশি। যা প্রয়োজন, তার থেকেও ২০ শতাংশ বেশি।

মূলত বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সাংসদেরাই এই নোটিসে স্বাক্ষর করেছেন। আম আদমি পার্টি আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই জোটে নেই। তবে আপ সাংসদেরাও জ্ঞানেশের অপসারণের নোটিসে স্বাক্ষর করেছেন। দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে অপসারণের পদ্ধতি সুপ্রিম কোর্ট বা হাই কোর্টের বিচারপতিকে অপসারণের মতোই। অসদাচরণ বা অক্ষমতা প্রমাণ করতে পারলেই ইমপিচমেন্ট সম্ভব। না হলে নয়। প্রথমে অপসারণের প্রস্তাব লোকসভা এবং রাজ্যসভায় পেশ করতে হয়। সেখানে মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যের দুই তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রস্তাব পাশ হওয়া চাই।