জনতার দরবারে বিস্ফোরক অভিযোগ! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার ও প্রাক্তন মেয়রের বিরুদ্ধে সরব অভিযোগকারী
সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি হাতানোর অভিযোগ নিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দরবারে হাজির হলেন মমতার প্রতিবেশী। ভবানীপুরের ৮০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসিন্দা রঞ্জনা হাজরা জনতার দরবারে হাজির হয়ে তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। অভিযোগকারীনি রঞ্জনা হাজরার অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেছেন। ওই ঘটনার জেরে তাঁদের ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার পর অবশেষে বিচারের আশায় জনতার দরবারে হাজির হন তিনি। ভবানীপুর থেকে আসা রঞ্জনা হাজরা জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ জানান।
অবশ্য রাজ্যের সরকার পরিবর্তনের পরে বহু রাজনৈতিক নেতার মতোই আনুগত্য বদলের ঘোষণা করে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই বাবুন। কয়েকদিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই স্বপন ওরফে বাবুন বলেন, ‘সুভাষ চক্রবর্তীর সঙ্গে কাজ করেছি, মদন মিত্রর সঙ্গে কাজ করেছি। অরূপের সঙ্গে কাজ করিনি। বনিবনা হত না। অরূপ বিশ্বাস আমায় কাজ করতে দিত না। সুজিত বসু মিথ্যে কথা বলে হকি আমার থেকে নিয়ে নিয়েছে। নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে কাজ করতে চাই।’
জমি কেড়ে নিয়েছেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ
তবে শুধুমাত্র প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই একা নন, জমি জবরদখল করে কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা এবারেও তৃণমূলের টিকিটের বন্দর বিধানসভা থেকে বিজয়ী হয়ে মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী তৃণমূলের নাম লেখানো হরিহরাদ হাকিমের। ভবানীপুরে এক মহিলার বাড়ি ও মন্দির কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা কলকাতা বন্দরের তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে। বুধবার জনতার দরবারে এসে অভিযোগ জানান আইনজীবী মোনালিসা দত্ত এবং আইনজীবী রূপা মাইতি।

তিনি জানান, ‘ভবানীপুরে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে আমাদের ২২ কাঠা দেবোত্তর জমি রয়েছে। প্রায় ২০০ বছরের জমি। আমাদের জমি দখল করে নিয়েছে জমি মাফিয়ারা। আগের সরকারের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। আগের মুখ্যমন্ত্রী তো নিজে চিঠি নিতেন না। স্বরাষ্ট্র সচিব, মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে কোনও লাভ হয়নি। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভা হয়নি। আমার ওকালতির ডিগ্রির কাগজ দেখে তা নকল বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তৃণমূল নেতা সাহেব আলম, নাটা পাপ্পু, একবালপুর থানার ওসি সাজিদ মল্লিক, ওয়াটগঞ্জ থানার ওসি আমানউল্লা এর সঙ্গে জড়িত। ভবানীপুর বিধানসভার ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবালপুর থানার অন্তর্গত ৪১ নম্বর ডেন্ট মিশন রোড ও ৪৭ নম্বর রোড ডেণ্ট মিশন রোডে প্রায় ২০০ বছরের মন্দিরের সঙ্গে বাড়ি ছিল। সব দখল করে নেওয়া হয়েছে। আমায় হোটেলে দিন কাটাতে হচ্ছে।’ আইনজীবী রূপা মাইতির অভিযোগ, ‘এর সঙ্গে ফিরহাদ হাকিম জড়িত। আমাদের মন্দিরে পুজো করতে দেওয়া হত না। বাজনা বাজাতে দেওয়া হত না। ১৬ বছর ধরে পুজো। শেষ বছর থেকে পুলিশ নানা কারণে বাধা দিতে শুরু করে।’

দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রেই অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাদের যাবতীয় অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং তাদের কাছ থেকে নথিপত্র নিয়ে দপ্তরের আধিকারিকদের বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।