মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা এলাকার সাফাই কর্মীদের সুরক্ষার জন্য চালু হল ‘স্বচ্ছ কবচ’ কর্মসূচি
সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা এলাকার সাফাই কর্মীদের সুরক্ষার জন্য চালু হল ‘স্বচ্ছ কবচ’ কর্মসূচি। রাজ্যকে দূষণমুক্ত করতে এবং পরিচ্ছন্নতার প্রসারে বড় পদক্ষেপ করল সরকার। একটি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে প্রাথমিকভাবে রাজ্যের 50 হাজার সাফাই কর্মীর হাতে এই বিশেষ কিট তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
এই উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের পরিবেশ দূষণ এবং সবুজ ধ্বংস নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘আধুনিকীকরণের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় জোর না-দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের অপরাধী হয়ে থাকতে হবে।’ রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী সাফাই কর্মীদের প্রকৃত সেবাদানকারী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের ধন্যবাদ জানান। তবে তাঁর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়েই ছিল পরিবেশ রক্ষার আকুল আবেদন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে একসময় পরিবেশ দফতরের দায়িত্বে ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শহরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘যেভাবে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, স্বচ্ছতার অভাবে যেভাবে বৃক্ষ ছেদন করে কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত করা হয়েছে এবং যেভাবে 15 বছরের বয়সের থেকে বেশি গাড়ি যা শহর এলাকায় চলাচল কার্যত নিষিদ্ধ, তার ভিজিল্যান্স উপেক্ষা করা হয়েছে, এর সবচেয়ে খারাপ প্রভাব যদি কারও মধ্যে পড়ে থাকে তাহলে শিশু কিশোর এবং বয়স্ক মানুষদের উপরই পড়ে। পরিবেশের ইন্ডেক্সগুলো এত বিপজ্জনক জায়গায় যায় যে, ডাক্তারবাবুরা বলেন মর্নিং ওয়াক করবেন না ইভনিং ওয়াক করুন।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’-এর প্রশংসাও শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতা ও বিধাননগর পুরসভার স্বচ্ছতা কর্মসূচির কথা প্রধানমন্ত্রী খোদ রেড রোডের অনুষ্ঠান থেকে উল্লেখ করেছেন বলে তিনি জানান। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, দিনকয়েক আগে কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টারের উপস্থিতিতে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই এমন সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং রাষ্ট্রমন্ত্রী উমেশ রায়কে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, এই দফতরকে আরও গতিশীল ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে নবান্ন থেকে সবরকম সহযোগিতা করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ‘সব জায়গায় শুধুমাত্র ফ্লাইওভার, রোডওভার ব্রিজ, সুন্দর সুন্দর দৃষ্টিনন্দন নানা হল- অডিটোরিয়াম এগুলোর যেমন প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি স্বচ্ছতা, স্বচ্ছ পরিস্রুত পানীয় জল, অরণ্য সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে সবুজায়ন এবং পরিবেশ বান্ধব পরিবেশ, এই বহুমুখী লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে যদি আমরা এগোতে না-পারি তাহলে আগামী দিনে সমাজের কাছে আমরা নিজেদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপিত করব।’

মুখ্যমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত তৎপরতা ও দূরদর্শিতাকে সাধুবাদ জানিয়ে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা মিরিক, দুধিয়া ও তরাই-ডুয়ার্সের অবহেলিত মানুষের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত মাত্র দু মাসের কার্যকালে পাহাড়ের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে শুভেন্দু অধিকারী যে সমস্ত পদক্ষেপ করেছেন, তা এককথায় নজিরবিহীন।’ সাংসদ রাজু বিস্তা বর্তমান সরকারের অধীনে পাহাড়ে অনুমোদিত হওয়া একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কালিম্পঙে একটি নতুন মেডিক্যাল কলেজের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি দার্জিলিংয়ে একটি আধুনিক ট্রমা সেন্টার অনুমোদন পেয়েছে এবং সেখানে একটি ৫০০ শয্যার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য জমি খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া কার্শিয়াং মহকুমা হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ছাড়পত্র মিলেছে। পাহাড়ের চা শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষায় ৩১৩ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার। চা বাগান ও সিঙ্কোনা বাগান এলাকায় ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’-সহ কেন্দ্র ও রাজ্যের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সফলভাবে লাগু করা হয়েছে। এছাড়াও ইতিমধ্যে ১ লক্ষ ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ ‘অন্নপূর্ণা যোজনার’ সুবিধা পাচ্ছেন।