মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) রেজিনগর (Rejinagar) সভা থেকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, ব্রিজ, কর্মসংস্থান ও পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর আশ্বাস; রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত।
শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
রাজ্যের উপনির্বাচন এখনও বাকি। কিন্তু রাজনৈতিক লড়াইয়ের উত্তাপ যেন এখনই চরমে। সেই আবহেই মুর্শিদাবাদের রেজিনগর (Rejinagar By-election) থেকে কার্যত নির্বাচনী প্রচারের সূচনা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আর মঞ্চ থেকেই তাঁর স্পষ্ট বার্তা— “উন্নয়ন চাইলে পদ্মফুল ফোটান, দু’হাত ভরে দেব।”
শুক্রবার সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) সফরের শেষ পর্বে রেজিনগরের জনসভায় হাজির হন শুভেন্দু। বক্তব্যের শুরু থেকেই তিনি উপনির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সমীকরণ তুলে ধরেন। একদিকে নিজের শক্ত ঘাঁটি নন্দীগ্রাম (Nandigram) নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুর, অন্যদিকে রেজিনগরকে বিজেপির পরবর্তী বড় লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
সভামঞ্চ থেকে শুভেন্দুর দাবি, বর্তমানে বিজেপি রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৮টিতে জয়ী হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। এরপরই তিনি বলেন, “নন্দীগ্রাম তো জিতবই। ওটা আমার উপর ছেড়ে দিন। কত ভোটে জিতব, সেটা দেখবেন। ২০৯ নম্বর আসন নিশ্চিত। ২১০ নম্বর আসন হবে কি না, সেটা নির্ভর করছে রেজিনগরের মানুষের উপর।”
এই মন্তব্যের পরেই জনতার উদ্দেশে তাঁর সরাসরি আবেদন, “বিজেপিকে জেতান। শুধু একটা নয়, দুটো ব্রিজ দেব। পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে এনে এখানেই কাজের ব্যবস্থা করব। পরিবারের সঙ্গে থেকে যাতে মানুষ জীবিকা অর্জন করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করব। শুধু পদ্মফুল ফোটান।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে শুভেন্দু শুধু ভোট চাইছেন না, উন্নয়নকেই উপনির্বাচনের প্রধান ইস্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন।
রেজিনগরের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)-এর নাম সরাসরি উচ্চারণ না করলেও তাঁকে ঘিরেই কটাক্ষ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখানে যিনি জনপ্রতিনিধি হয়েছিলেন, দুটো আসনে জিতে রেজিনগর ছেড়ে দিয়েছেন। এখন মানুষ ঠিক করবেন— সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চান, নাকি উন্নয়ন চান?”
এরপরই তিনি হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতি প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “পেটে ভাত, হাতে কাজ— মানুষ সেটাই চায়। বিজেপির আমলে হিন্দু-মুসলমান সবাই ভালো আছেন। যাঁরা বলেছিলেন বিজেপি মুসলিমদের তাড়িয়ে দেবে, বাস্তবে কী দেখছেন আপনারাই বিচার করুন।”
সভামঞ্চে দাঁড়িয়েই শুভেন্দু আরও একবার আশ্বাস দেন, “আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, আপনারা বিজেপিকে জেতান। দু’হাত ভরে আপনারা যা চাইবেন, তাই দেব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেজিনগরের এই সভা শুধু একটি নির্বাচনী প্রচার নয়, বরং আসন্ন উপনির্বাচনের রণকৌশলের স্পষ্ট ইঙ্গিত। বিজেপি চাইছে উন্নয়ন, অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্নকে সামনে রেখে ভোটের লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। অন্যদিকে বিরোধীরাও এই চ্যালেঞ্জের জবাব কীভাবে দেয়, সেদিকেও নজর থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ভবানীপুর (Bhabanipur) এবং নন্দীগ্রাম (Nandigram)— দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন। অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) জয় পান রেজিনগর (Rejinagar) এবং নওদা (Naoda) আসনে। সংবিধান অনুযায়ী একটি আসন রাখতে হওয়ায় উভয় নেতাই একটি করে কেন্দ্র ছেড়ে দেন। সেই কারণেই রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হতে চলেছে, যা ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

এখন নজর একটাই— শুভেন্দুর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি কি রেজিনগরের ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলবে, নাকি বিরোধীরা পাল্টা সমীকরণ সাজিয়ে চমক দেখাবে? উপনির্বাচনের ফলই তার উত্তর দেবে।