সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
“কেউ বলছেন – হিন্দুরা বিপদে আছে, কেউ বলছেন বিপদে আছেন মুসলমানরা। কিন্তু আমি বলব, বিজেপির বন্ধুরা ধর্মের চশমা খুলে দেখুন, পুরো হিন্দুস্তানই বিপদে।”‘ রেড রোডে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে এভাবেই বিজেপির উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রতিবছরের মতোই এবারও কলকাতাতেও পালিত হচ্ছে খুশির ইদ। রেড রোডে নমাজ পাঠ অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশে রইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রেড রোডের মঞ্চ থেকে তাঁরা দিলেন সম্প্রীতির বার্তা। বিজেপিকে আক্রমণ করে বললেন, ওরা বিভাজন চায়, প্ররোচনায় পা দেবেন না।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কয়েক মিনিটের আবেগপূর্ণ ভাষণে রাখলেন বিবিধের মাঝে মিলনের বার্তা। বললেন, বাংলার মাটি যতটা হিন্দুদের, ততটা মুসলমানের, ততটাই অন্যান্য ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষের। মনে করালেন, এই বাংলা বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যযাপনের। ‘বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। সর্বশক্তিমান আল্লাহ সবার রোজা কবুল করুন। সবার আগামী জীবন সুন্দর হোক। সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠুক ‘। সেই সঙ্গে বললেন, ‘এই সম্প্রীতির বাংলায় যারা আগুন নিয়ে খেলা করে বাংলাকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। কেউ যেন তাদের ষড়যন্ত্রে পা দেবেন না’
বিজেপিকে আক্রমণ করে বললেন, যে বাংলা থেকে তারা ১৮ টা সিট পেয়েছিল, তার মধ্যে ৬ টা সিটে বাংলার মানুষই তাদের হারিয়ে দিয়েছে। যদি বাংলার সবাই একজোট না হত, তাহলে গোটা দেশে ওদের একনায়কতন্ত্র চলতেই থাকত। ‘যারা বাংলাকে ভাগ করতে চায়, বাটোয়ারা করতে চায়, তাদের মনে রাখা উচিত, যে চাঁদ দেখে খুশির ইদ পালন হয়, তেমন সেই চাঁদ দেখেই করওয়াচৌথে উপোসভঙ্গ করা হয়। চাঁদের কোনও ধর্ম হয় না। সূর্য সকলকে আলো দেয়। তার কোনও ধর্ম নেই। যে হাওয়ায় আমরা শ্বাস নিই, সেই হাওয়ার কোনও ধর্ম হয় না । ‘ রাহত ইন্দোরির লেখা উদ্ধৃত করে বললেন, “সভি কা খুন হ্যায় শামিল ইঁহা মিট্টি মে, কিসী কে বাপ কা হিন্দুস্তান থোড়ি হ্যায়।”
প্রতিবছরের মতো এবারও সকালে প্রথমে রেড রোডে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে নমাজ পাঠের জন্য হাজির হওয়া মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানান। তারপরই অভিষেককে সঙ্গে নিয়ে পার্ক সার্কাস পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। লাল মসজিদের সামনে নেমে পড়েন গাড়ি থেকে।

এরপর সেখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটে যান সাদা মসজিদ পর্যন্ত। রাস্তার দুপাশে থাকা আমজনতাকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। এরপর রিজওয়ানুরের বাড়ি পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। রিজওয়ানুরের স্মৃতিতে তৈরি বেদিতে মাল্যদান করেন। কথা বলেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। বেশ কিছুক্ষণ সেখানে ছিলেন তিনি।