বিরোধী নেতা থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি—রাস্তাঘাটে ডিম ছুঁড়ে হেনস্থার ঘটনায় উদ্বেগ, বিচারবিভাগীয় তদন্ত চাইলেন মামলাকারী
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
রাজনীতির ময়দানে মতের লড়াই নতুন নয়। কিন্তু সেই লড়াই যদি পৌঁছে যায় প্রকাশ্য রাস্তায় ডিম ছোড়া, শারীরিক হেনস্থা এবং সামাজিক অপমানের পর্যায়ে, তাহলে কি তা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক সংকেত? এই প্রশ্নই এবার পৌঁছে গেল কলকাতা হাইকোর্টের দরজায়।
রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হয়েছে জনস্বার্থ মামলা (PIL)। মামলাকারীর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন জেলায় বিরোধী রাজনৈতিক নেতা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রকাশ্যে ডিম ছুড়ে অপমান করা হচ্ছে। আরও গুরুতর অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় থেকেছে।
মামলায় বলা হয়েছে, ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু কোনও জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতাকে জনসমক্ষে এভাবে হেনস্থা করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। তাই এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারকে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে আদালতের কাছে।
আবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে গত ৩০ মে (Sonarpur) দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে ঘটে যাওয়া ঘটনা। সেখানে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (Abhishek Banerjee) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ এবং হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একই ধরনের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে বলে দাবি।
মামলাকারীর বক্তব্য, শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রাক্তন বিধায়ক (Sabyasachi Dutta) সব্যসাচী দত্ত থেকে শুরু করে (Kalighat) কালীঘাটে তৃণমূল বিধায়ক (Kunal Ghosh) কুনাল ঘোষের উপর ডিম ছোড়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি বিপজ্জনক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত বলেই দাবি করা হয়েছে আদালতে।
সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হল তথাকথিত ‘Egg Therapy’ বা ‘ডিম থেরাপি’। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু রাজনৈতিক নেতা ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী এই ধরনের ঘটনাকে মজা বা জনরোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তুলে ধরে উৎসাহিত করছেন। এর ফলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছেন আইনজীবী (Atindra Chowdhury) অতীন্দ্র চৌধুরী। তাঁর দাবি, রাজ্যে সংঘটিত সমস্ত ডিম নিক্ষেপ সংক্রান্ত ঘটনার নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত। পাশাপাশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপও প্রয়োজন।

এদিকে কালীঘাটে কুনাল ঘোষের উপর ডিম ছোড়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে প্রশ্ন একটাই—রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভাষা কি এখন ডিম ছোড়া? নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় রাজনৈতিক বার্তা? হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণই এখন নির্ধারণ করতে পারে, এই বিতর্কিত ‘এগ থেরাপি’ রাজনীতির ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে।