স্টেশন চত্বরের পর এবার ট্রেনের ভেতরেও কড়াকড়ি, টিকিট ছাড়া সফর থেকে মহিলা কামরায় প্রবেশ—একাধিক অপরাধে বাড়ল জরিমানার অঙ্ক
প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
যাত্রীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। ট্রেনে ওঠার আগে কিংবা সফরের সময় একটু অসাবধান হলেই এবার গুনতে হতে পারে হাজার হাজার টাকা জরিমানা। স্টেশনে অবৈধ দখল ও হকার উচ্ছেদের পর এবার চলন্ত ট্রেনের ভিতরে বেআইনি হকারি ও ভিক্ষাবৃত্তির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল ভারতীয় রেল (Indian Railways SEO Keyword)।
রেল মন্ত্রকের তরফে জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অনুমতি ছাড়া ট্রেন বা রেল প্রাঙ্গণে ব্যবসা করা, পণ্য বিক্রি করা কিংবা ভিক্ষাবৃত্তি করলে আর রেহাই মিলবে না। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ধরা পড়লেই দিতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা।
সম্প্রতি কার্যকর হওয়া জন বিশ্বাস আইন ২০২৬ (Jan Vishwas Act 2026 SEO Keyword)-এর আওতায় ভারতীয় রেলের একাধিক ধারায় সংশোধন আনা হয়েছে। সেই সংশোধিত বিধি অনুযায়ী জরিমানার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে রেল সূত্রে খবর।
সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ধারা ১৪৪। এই ধারায় ট্রেন বা রেলওয়ের অনুমোদিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া হকারি কিংবা ভিক্ষাবৃত্তি করলে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
তবে শুধু হকার বা ভিক্ষুকদের জন্য নয়, সাধারণ যাত্রীদের জন্যও রয়েছে একাধিক সতর্কবার্তা। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, টিকিট ছাড়া সফর করলে ধারা ১৩৭-এর আওতায় ন্যূনতম ৫০০ টাকা জরিমানা গুনতে হবে।
এছাড়া অন্য কারও নামে ইস্যু করা টিকিট ব্যবহার করে যাত্রা করলে ধারা ১৪২ অনুযায়ী সেই টিকিট বাজেয়াপ্ত করা হবে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত ৫০০ টাকা বা তার বেশি জরিমানাও দিতে হতে পারে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে।
রেলের নজরে এসেছে ট্রেনে অসামাজিক আচরণের ঘটনাও। তাই ধারা ১৪৫-এ কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। মদ্যপ অবস্থায় ট্রেনে ওঠা, যাত্রীদের বিরক্ত করা, অশালীন ভাষা ব্যবহার, থুতু ফেলা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। একই অপরাধ বারবার করলে জরিমানার অঙ্ক ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, এমনকি কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও রয়েছে।
রেললাইন বা যাত্রী এলাকায় অনধিকার প্রবেশের বিরুদ্ধেও কঠোর হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ধারা ১৪৭ অনুযায়ী ট্রেসপাসিং ধরা পড়লে ৫০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।
অন্যদিকে ধূমপায়ীদের জন্যও সুখবর নেই। ট্রেন বা রেল প্রাঙ্গণে ধূমপান করলে ধারা ১৫৫ অনুযায়ী ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধারা ১৬২ অনুযায়ী, মহিলা কামরা বা সংরক্ষিত আসনে কোনও পুরুষ যাত্রী অনধিকার প্রবেশ করলে ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হবে।
সবচেয়ে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে পারেন তাঁরা, যারা ট্রেনে বিপজ্জনক বা নিষিদ্ধ সামগ্রী বহন করবেন। ধারা ১৬৫ অনুযায়ী এই ধরনের অপরাধে ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

রেল কর্তৃপক্ষের মতে, যাত্রী পরিষেবা আরও সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ যাত্রী, হকার এবং রেল নির্ভর জীবিকার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।
রেলের এই কঠোর অবস্থানের পর প্রশ্ন উঠছে, এবার কি সত্যিই ট্রেনের ভেতর থেকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হবে অবৈধ হকারি ও ভিক্ষাবৃত্তি? নাকি নতুন জরিমানাকে ঘিরেই শুরু হবে নতুন বিতর্ক?