পশ্চিমবঙ্গ দিবসে বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, সুশাসন থেকে আয়ুষ্মান ভারত—একাধিক সিদ্ধান্তের প্রশংসা; পাল্টা কৃতজ্ঞতা মুখ্যমন্ত্রীর
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চিঠি। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে বাংলায় লেখা এক দীর্ঘ বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুধু শুভেচ্ছাই জানাননি প্রধানমন্ত্রী, তুলে ধরেছেন বাংলার অতীত গৌরব, বর্তমান প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং ভবিষ্যতের উন্নয়নের এক বিস্তৃত রূপরেখাও।
চিঠির ভাষা যেমন আবেগঘন, তেমনই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বাংলার নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায় প্রশাসনের কাজের প্রশংসা করেছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
চিঠির শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (SEO Keyword: Suvendu Adhikari) এবং পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (SEO Keyword: Narendra Modi)। তিনি উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিক তারকেশ্বরের (SEO Keyword: Tarakeswar) মাটিতে দাঁড়িয়ে এই বিশেষ দিন উদযাপন করতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন।
বাংলার ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন চিন্তা, সমাজ সংস্কার, সাহিত্য, শিল্প, বিজ্ঞান কিংবা আধ্যাত্মিক জাগরণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলা দেশের পথপ্রদর্শক ছিল। উনিশ শতকের নবজাগরণ থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম, বাংলার অবদানকে বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন তিনি।
বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি। প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণার উৎস এই গান বাংলার মাটিতেই জন্ম নিয়েছিল। এমনকি সম্প্রতি বিদেশ সফরে স্লোভাকিয়ার শিল্পীদের কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ শুনে তিনি আপ্লুত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন চিঠিতে।
তবে শুধু ইতিহাস নয়, বর্তমান রাজনীতিরও স্পষ্ট প্রতিফলন রয়েছে এই বার্তায়।
২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৪৭ সালের ২০ জুনের সেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেই সময়ের রাজনৈতিক নেতৃত্বের দূরদর্শিতার ফলেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছিল।
এই প্রসঙ্গে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (SEO Keyword: Syama Prasad Mookerjee) অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন মোদী। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
চিঠির সবচেয়ে আলোচিত অংশ অবশ্য নতুন সরকারের কাজ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়ন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক নারী ও যুব ভোটারের অংশগ্রহণকে গণতন্ত্রের শক্তির প্রতীক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সরকার গঠনের পর প্রথম এক মাসে নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করেন।
বিশেষ করে আয়ুষ্মান ভারত (SEO Keyword: Ayushman Bharat) প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এর ফলে রাজ্যের কোটি কোটি মানুষ উন্নত চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।
মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস যাত্রা, অন্নপূর্ণা যোজনা (SEO Keyword: Annapurna Yojana), মা আহার প্রকল্পের সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন চালুর উদ্যোগ—এসবকেই প্রশাসনের মানবিক ও জনমুখী পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ বার্তা রয়েছে চিঠিতে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত নিশ্চিত করায় রাজ্য সরকারের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিনিয়োগ এবং উত্তরবঙ্গে গোর্খা সম্প্রদায়ের সমস্যা সমাধানে সরকারের পদক্ষেপ রাজ্যের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
উন্নয়নের প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তাঁর দাবি, জল জীবন মিশন (SEO Keyword: Jal Jeevan Mission) সহ বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। পাশাপাশি রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং আরও প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
চিঠিতে কলকাতার (SEO Keyword: Kolkata Development) ভবিষ্যৎ নিয়েও আলাদা করে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক পরিবহণ, উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা, আবাসন ও ঐতিহ্য রক্ষার সমন্বয়ে কলকাতা আবারও এশিয়ার অন্যতম প্রধান মহানগরীতে পরিণত হতে পারে।
চিঠির শেষ অংশে উঠে এসেছে ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন। প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, দেশের উন্নয়নের এই বৃহৎ লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলার ঐতিহ্য, প্রতিভা এবং কর্মশক্তি আগামী দিনের ভারত গঠনে বড় ভূমিকা নেবে বলেও তাঁর বিশ্বাস।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভরসা, উৎসাহ ও সমর্থন রাজ্যবাসীকে নতুন উদ্যমে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে ঘিরে এই বার্তা নিছক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে যেমন ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়নের চেষ্টা রয়েছে, তেমনই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপরেখারও স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।
এখন নজর একটাই—প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা এবং উন্নয়নের রূপরেখা বাস্তবে কতটা দ্রুত প্রতিফলিত হয় বাংলার মাটিতে, আর তা আগামী দিনের রাজনীতিতে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে।