সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে আইনের ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে করা মন্তব্যের জন্য দলকে লিখিতভাবে দুঃখপ্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির পাঠানো শোকজ চিঠির জবাবে সোমবার রাতেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে চিঠি দিয়েছেন কামারহাটির এই বিধায়ক।
কসবায় ছাত্রী ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনা নিয়ে মদনের মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের ঝড় ওঠে। শনিবার তিনি বলেন, ”ওই মেয়েটি যদি ওখানে না যেত, ঘটনা ঘটত না। একা না গিয়ে কাউকে সঙ্গে নিলে হয়তো এমনটা হত না।” তাঁর আরও মন্তব্য ছিল, ”অন্য মেয়েরাও যেন শিক্ষা নেয়, কেউ যেন একা কোথাও না যায়।” এই মন্তব্যকে ‘অসংবেদনশীল’ এবং ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে আখ্যা দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করে শনিবার রাতেই বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, মচদচনের মন্তব্য একান্তই ব্যক্তিগত এবং দল এর সঙ্গে একমত নয়। এরপর রবিবার তৃণমূল রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি মদন মিত্রকে শোকজ চিঠি পাঠান। চিঠিতে বলা হয়, ”একটি ভয়াবহ এবং লজ্জাজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে আপনি যেভাবে মন্তব্য করেছেন, তা দলের অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এতে জনমানসে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।” চিঠিতে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে তিনি তাঁর আচরণ ও মন্তব্যের ব্যাখ্যা দলের কাছে জমা দিয়েছেন। তিন দিনের সময়সীমার মধ্যেই তিনি এই জবাব জমা দিয়েছেন।
সূত্রের খবর, রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর কাছে ইতিমধ্যেই নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে চিঠি পাঠিয়েছেন মদন মিত্র। চিঠিতে তিনি দলের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে লিখেছেন-“আমি দলের অনুগত কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে দলের হয়ে কাজ করছি। যদি আমার কথায় দলের ভাবমূর্তি আঘাত পেয়ে থাকে, তাহলে আমি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি।” শুধু মদন মিত্রই নন, এই ঘটনার পর বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সূত্রে জানা গিয়েছে, দল বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল ঘটনায় দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না-এই বার্তা স্পষ্ট দলীয় নেতৃত্বের তরফে।

মদন মিত্রের নিঃশর্ত ক্ষমা চাইবার পরে আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা ঠান্ডা হলেও, এই মন্তব্য যে দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই।