ভ্রমণপিপাসু অনেকেই আছেন যাঁদের একটাই সমস্যা—গাড়িতে উঠলেই গা গুলিয়ে ওঠে, মাথা ঘোরে, বমি পায়। বিশেষ করে পাহাড়ি রাস্তা বা লম্বা সফরে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। এই ভ্রমণজনিত অসুস্থতাকে বলা হয় মোশন সিকনেস বা চলনঘটিত বমি ভাব। এই সমস্যা দূর করতে কিছু সহজ অভ্যাস, ওষুধ এবং সচেতনতা আপনাকে অনেকটা স্বস্তি দিতে পারে।
বিশ্বখ্যাত সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ স্টেসি রোজ (বেলর কলেজ অফ মেডিসিন, টেক্সাস) এই সমস্যার সমাধানে কিছু কার্যকরী পরামর্শ দিয়েছেন।
ভ্রমণের আগে ভারী খাবার নয়, হালকা খাবার খান
গাড়িতে ওঠার আগে পেট একেবারে খালি না রেখে হালকা কিছু খেয়ে নিন। ভরপেট খাওয়া মোটেই ঠিক নয়। এতে বমির প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে যারা motion sickness during travel সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের এই নিয়ম অবশ্যই মেনে চলা উচিত।
প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখুন সঙ্গে
ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী vomiting prevention medicine বা মোশন সিকনেসের ওষুধ সঙ্গে রাখুন। ওষুধ সময়মতো খেলে অনেকটাই রেহাই পাওয়া যায়। তেমন কোনও উপসর্গ দেখা দিলে ওষুধ খেয়ে নেওয়া উচিত।
গানের সাহায্যে ঘুমিয়ে পড়ুন
বাসে বা গাড়িতে উঠে মাথা ঘুরতে থাকলে হালকা গান শুনতে শুনতে চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ুন। এতে শরীর ও মন দুটোই শান্ত থাকে। ঘুম না এলে শ্বাস ধরে রাখার চেষ্টা করুন বা গভীর শ্বাস নিন। এই পদ্ধতি reduce nausea while traveling ক্ষেত্রে অনেক কার্যকর।
জল খান ঠিকভাবে, কিন্তু বুঝে শুনে
শরীর হাইড্রেটেড না থাকলে বমির সম্ভাবনা বাড়ে। তবে গাড়িতে উঠে বমি পেলে ভুল করেও সঙ্গে সঙ্গে জল খেয়ে ফেলবেন না। বরং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে, অবস্থার উন্নতি হলে জল পান করুন।
খোলা হাওয়া উপভোগ করুন, এসি নয়
অনেকেরই বন্ধ জানলার মধ্যে থাকা বা এসি চালু থাকা অবস্থায় সমস্যা হয়। যাঁরা motion sickness in cars or buses সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের উচিত জানলার কাচ খোলা রাখা। বাইরের বাতাস গায়ে লাগলে অনেকটা স্বস্তি পাওয়া যায়।
সানস্ক্রিন ও ইনসেক্ট রিপেলেন্ট সঙ্গে রাখুন
ভ্রমণে যাওয়ার সময় সূর্য থেকে ত্বক রক্ষা করতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং পোকামাকড় থেকে বাঁচতে ইনসেক্ট রিপেলেন্ট। এতে মশাবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমে এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
বাইরের খাবারে বেশি ঝোঁক না দেখান
ডঃ স্টেসি রোজ জানাচ্ছেন, ভ্রমণের সময় ডায়রিয়া বা বমি হওয়ার অন্যতম কারণ বাইরের দূষিত খাবার। খাবারে থাকা norovirus, rotavirus, giardia বা cryptosporidium-এর মতো পরজীবী বা ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে অসুস্থ করে তোলে।
বিশেষ করে যারা ২ সপ্তাহের বেশি ভ্রমণে যান, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০-৭০ শতাংশের মধ্যে traveler’s diarrhea and vomiting দেখা দেয়। তাই রাস্তার খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন এবং ফ্রেশ, হাইজিনিক খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
হাত ধোয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিন
খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ময়লা হাতে মুখে হাত দিলে খাবারের বাইরেও ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করতে পারে। দিনের শেষে হোটেলে ফিরে হ্যান্ডওয়াশ বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।
খাবারে পরিবর্তন মানিয়ে নিন ধীরে ধীরে
ভ্রমণের সময় খাদ্যাভ্যাস বদলে যায়। অনেক সময় এই হঠাৎ পরিবর্তনের কারণেই পেট খারাপ বা বমির মতো সমস্যা হয়। তাই নতুন খাবার খাওয়ার আগে ধীরে ধীরে শরীরকে মানিয়ে নিতে দিন।
মানসিক প্রস্তুতি নিন ও ট্রিপ নিয়ে স্ট্রেস না নিন
ট্রিপে যাওয়ার আগে মনে অকারণ দুশ্চিন্তা করবেন না। Motion sickness remedies during travel কাজ করে তখনই, যখন আপনি মানসিকভাবে স্থির ও প্রস্তুত থাকেন। রিল্যাক্স থাকুন এবং আনন্দ নিন ভ্রমণের।
মোশন সিকনেস কোনও কঠিন অসুখ নয়। কিছু সহজ সতর্কতা, উপযুক্ত খাবার, ওষুধ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চললে এই সমস্যাকে সহজেই জয় করা সম্ভব। আপনার পরবর্তী ট্রিপ হোক আরামদায়ক, নিরাপদ ও বমিমুক্ত!