সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কলকাতা। তারই মধ্যে রয়েছে নিম্নচাপের ভ্রুকুটি। এই আবহে কাল থেকেই সরকারি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পুজোর ছুটি পড়ে যাচ্ছে। আজ সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ পেয়েই পুজোর ছুটির ঘোষণা করে দেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
এমনিতে শুক্রবার ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি, সরকার-পোষিত, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছুটি পড়ার কথা ছিল।
রাতভর প্রবল দুর্যোগে এগিয়ে এল পুজোর ছুটি। রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলগুলিতে আজ, মঙ্গলবার থেকেই পুজোর ছুটি ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সংবাদমাধ্যমকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, ‘আমি শিক্ষাদপ্তরকে বলেছি, আজ থেকেই সমস্ত স্কুলগুলোকে ছুটি ঘোষণা করে দিক। আর অন্যান্য স্কুল, যারা কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন, তারা তো আমাদের কথা শোনে না। তবু আমি তাদের কাছে অনুরোধ করেছি যে, দু’দিন স্কুল ছুটি দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হোক। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যদি ক্লাস করাতে হয়, তাহলে যেন অনলাইনে ক্লাস হয়। কোভিডের সময় যেমন হচ্ছিল।’
তাঁর এই ঘোষণার পরই এক্স হ্যান্ডেলে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ছুটির কথা জানান। তিনি লেখেন, এক অভূতপূর্ব দুর্যোগের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর উপদেশে এই দুর্যোগে ছাত্রছাত্রীদের স্বস্তি দিতে এবং দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে আগামী কাল এবং পরশু, অর্থাৎ ২৪ এবং ২৫ সেপ্টেম্বর রাজ্যের সমস্ত বিদ্যালয় ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত…।মঙ্গলবার বেসরকারি স্কুলগুলিও ছুটি ঘোষণা করেছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘শুধু আজ ছুটি দিলে হবে না। আগামিকালও (বুধবার) এমন দুর্যোগ থাকবে। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করব যে অন্তত দুটো দিন ছুটি দিন। বাচ্চারা নইলে সমস্যায় পড়বে।’
ব্রাত্য আরও জানান, এই দুর্যোগের সময় সমস্ত শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক শিক্ষিকা এবং শিক্ষা কর্মীদের অনুরোধ রইল তাঁরা বাড়ি থেকেই যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্মগুলি করেন। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে যেহেতু সরকারিভাবে পুজোর ছুটি পড়ছে, তাই কার্যত কাল থেকেই দুর্গাপুজোর ছুটি শুরু হয়ে যাচ্ছে। সকলকে আসন্ন শারদীয়ার শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানাই। আমার গভীর এবং আন্তরিক সমবেদনা রইলো এই দুর্যোগে নিহত সহনাগরিকদের পরিবারগুলির প্রতি।