পাহাড়ে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সফরে জোর উন্নয়ন ও জনসংযোগে
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘আপনাদের ভাই শুভেন্দু, পাহাড়ে ঘুরতে আসবে না, কাজ করতে আসবে।’ ৯ মে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথমবার পাহাড় সফরে এসে পাহাড়ের মানুষের কাছে এমনই প্রতিশ্রুতি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই দার্জিলিং পাহাড়ের মানুষের সমর্থন পেয়ে আসছে বিজেপি। সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে পাহাড়ের মানুষকে চিরকাল বিজেপির শরিক হিসেবে ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘পাহাড়কে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা বদ্ধপরিকর। ২০০৯ সাল থেকে পাহাড় বিজেপির সঙ্গে। আপনারা দিয়েছেন এতদিন। এবারে আমরা দেব। পাহাড়ের জন্যে সব দেবে আপনাদের শুভেন্দু ভাই। উন্নয়নের পরিকল্পনা চলছে।’ পাহাড়ের মানুষের উন্নয়নের পাশাপাশি নেপালি ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক প্রকল্পে আপনারা জুড়ুন। পাহাড়বাসীর উদ্দেশ্যে বলেন। অন্নপূর্ণা যোজনা পাবেন। ফর্ম ফিল আপ আপনাদের প্রিয় নেপালী ভাষাতেই হবে। ওয়ার্ড, গ্রাম গ্রামে মোদিজীর গ্যারান্টি দেওয়া হবে। আয়ুষ্মান প্রকল্পও পাচ্ছে রাজ্য। প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা চালু করব।’ কার্শিয়াঙের জনসভা থেকে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বিগত জমানার উদাসীনতার দিকে আঙুল তুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আগের মুখ্যমন্ত্রী বলতেন, পাহাড়ে নাকি তাঁর কোনও ভোট নেই, তাই তিনি এখানকার জন্য কাজও করতেন না। স্রেফ পর্যটক হয়ে পাহাড়ে ঘুরে যেতেন। কিন্তু আমি এখানে পর্যটক হিসেবে আসিনি, কাজ করতে এসেছি। পাহাড়ের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সরকারের সব প্রকল্পকে পাহাড়বাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। যা বলব, তা-ই করব— এটাই আমার অঙ্গীকার। আগে রাজ্যে একটি ‘নেগেটিভ’ সরকার ছিল। ঠিকমতো নিয়োগ তো হয়ইনি, উল্টে জিটিএ-তেও ব্যাপক নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে। এই সরকারের আমলে তেমনটা হবে না। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুলিশে বড়সড় নিয়োগ করা হবে।’
গোর্খা জন মুক্তি মোর্চার বিমল গুরুঙ এবং রোশন গিরির সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘এবার পাহাড়ে পরিবর্তনের জন্য যিনি কাজ করেছেন, তিনি বিমল গুরুং এবং রোশন গিরি।’ এদিন পাহাড়ে সমস্ত রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে যৌথভাবে সংবর্ধনা জানানো হয়। সর্বদলীয় এই অভ্যর্থনায় আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী কার্শিয়ঙের জনসভা থেকে স্পষ্ট জানান, ‘পাহাড়ে সব দলের তরফে সংবর্ধনা পেলাম। এবার ডবল ইঞ্জিন সরকারের আসল সুফল পাবেন পাহাড়ের মানুষ। কেন্দ্রের সমস্ত থমকে থাকা প্রকল্প এবার পাহাড়ে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হবে। ১ জুলাই থেকে ১২৫ দিনের কাজ পাবে পাহাড়বাসী। জিটিএ-তে নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে, এই সরকারের আমলে দুর্নীতি হবে না। আগামী কয়েক মাসের পুলিশে নিয়োগ হবে। কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ হবে।’ দেশের নিরাপত্তায় স্থানীয় মানুষের বলিদানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, ‘দেশের সুরক্ষার জন্যে পাহাড়ের সেনা জওয়ানেরা জীবন বলিদান দিয়েছেন। ওনাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান করি। যখনই দেশ ভাঙার চক্রান্ত হয়েছে, তখনই পাহাড়ের বীরেরা রুখে দাঁড়িয়েছেন। দেশ রক্ষায় পাহাড়ের শহিদ সেনানীদের আমার প্রণাম।’

মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রথমবার পাহাড় সফরে গিয়ে গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) দুর্নীতি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ে প্রশাসনিক বৈঠক ও জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, জিটিএ-র যাবতীয় দুর্নীতির ফাইল খোলা হবে এবং এর তদন্তও হবে। একইসঙ্গে তিনি পাহাড়ে শিক্ষক ও পুলিশ পদে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন, যা শুনে পাহাড়জুড়ে খুশির হাওয়া।প্রসঙ্গত, দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পং এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রই বিজেপির কব্জায়। দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রও দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির অধীনে।