ব্রেকিং
  • Home /
  • ভারত /
  • Ritabrata Info bhutan river : “কেন্দ্রীয় সরকার কি ইন্দো ভুটান রিভার কমিশন গঠনে রাজি?” রাজ্য সভায় প্রশ্ন ঋতব্রতর

Ritabrata Info bhutan river : “কেন্দ্রীয় সরকার কি ইন্দো ভুটান রিভার কমিশন গঠনে রাজি?” রাজ্য সভায় প্রশ্ন ঋতব্রতর

সুমনা মিশ্র। কলকাতা সারাদিন। উত্তরবঙ্গের বন্যা সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য এবং কেন্দ্রের মধ্যে মতবিরোধ চলছে। ভুটানে অতিবৃষ্টির ফলে প্রতি বছর উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদীতে জলস্রোত বেড়ে যায়, যার জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়ে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার সহ একাধিক জেলা। এই সমস্যার....

Ritabrata Info bhutan river : “কেন্দ্রীয় সরকার কি ইন্দো ভুটান রিভার কমিশন গঠনে রাজি?” রাজ্য সভায় প্রশ্ন ঋতব্রতর

  • Home /
  • ভারত /
  • Ritabrata Info bhutan river : “কেন্দ্রীয় সরকার কি ইন্দো ভুটান রিভার কমিশন গঠনে রাজি?” রাজ্য সভায় প্রশ্ন ঋতব্রতর

সুমনা মিশ্র। কলকাতা সারাদিন। উত্তরবঙ্গের বন্যা সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য এবং কেন্দ্রের মধ্যে মতবিরোধ চলছে।....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

সুমনা মিশ্র। কলকাতা সারাদিন।

উত্তরবঙ্গের বন্যা সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য এবং কেন্দ্রের মধ্যে মতবিরোধ চলছে। ভুটানে অতিবৃষ্টির ফলে প্রতি বছর উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদীতে জলস্রোত বেড়ে যায়, যার জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়ে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার সহ একাধিক জেলা। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বহুবার ইন্দো ভুটান রিভার কমিশন গঠনের দাবি তুলেছেন। এই কমিশনের মাধ্যমে ভুটান এবং ভারতের মধ্যে জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও বন্যা মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ নেওয়া যেত।
রাজ্যসভার অধিবেশনে তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের কাছে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন—কেন্দ্রীয় সরকার কি ইন্দো ভুটান রিভার কমিশন গঠনে রাজি? কিন্তু কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের কোনও কমিশন গঠন করার পরিকল্পনা নেই।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ ঋতব্রত বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছেন। আমি সংসদে প্রশ্ন করে জানতে চেয়েছিলাম, কেন্দ্র এ ব্যাপারে কী ভাবছে। কিন্তু উত্তর এসেছে—তারা এমন কোনও কমিশন করবে না। এর মানে, বাংলা ডুবে গেলে তাদের কিছু এসে যায় না।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুটানের নদীগুলি সরাসরি উত্তরবঙ্গের নদীগুলির সঙ্গে সংযুক্ত। বর্ষাকালে ভুটানে অতিবৃষ্টি হলে হঠাৎ করে জলস্তর বেড়ে যায় এবং প্রবল বন্যার সৃষ্টি হয়। ইন্দো ভুটান রিভার কমিশন গঠন করা হলে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, জলস্তর পর্যবেক্ষণ, সতর্কবার্তা জারি এবং বাঁধ নিয়ন্ত্রণের মতো কাজ সহজেই সমন্বিতভাবে করা যেত।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। উত্তরবঙ্গের মানুষ প্রতি বছরই বন্যার ধাক্কা সামলাতে বাধ্য হচ্ছেন—ঘরবাড়ি, ফসল, পশুপালন সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রশাসনিক সহায়তা পেলেও মূল সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্র রাজনৈতিক কারণে বাংলার স্বার্থকে উপেক্ষা করছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, ভুটানের সঙ্গে ইতিমধ্যেই জলসম্পর্কিত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা আছে, এবং আলাদা কমিশনের প্রয়োজন নেই। তাদের মতে, বিদ্যমান কূটনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে রাজ্যের যুক্তি, বাস্তবে সেই সহযোগিতা পর্যাপ্ত নয়, ফলে জনগণ প্রতি বছর বন্যার শিকার হচ্ছেন।
ইন্দো ভুটান রিভার কমিশন না গঠনের এই সিদ্ধান্ত এখন উত্তরবঙ্গের বন্যা সমস্যার সমাধানকে আরও অনিশ্চিত করে তুলল। পরিবেশবিদ এবং নদী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই সমস্যা থেকে মুক্তি সম্ভব নয়। আগামী দিনে এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

আজকের খবর