শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“সমস্ত দল মিলে এনআরসি-র দাবি করা উচিত। ভারতীয় নাগরিক হলেই ভোটার লিস্টে নাম উঠবে। আধার কার্ড থাকবে। এটাই করুন না…।” এভাবেই 26 বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক এক বছর আগে বাংলায় এনআরসি চালু করার জন্য মমতার ভবানী করে দাঁড়িয়ে মমতাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন কি বাত অনুষ্ঠান ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেই সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু। আগামী বছর ২০২৫ সালে বিধানসভা নির্বাচন। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আগামী বছর হটসিট হবে ভবানীপুর কেন্দ্র। কারণ এই কেন্দ্রে শুভেন্দু লড়াই করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারী প্রার্থী হতে পারেন কিনা তা নিয়ে জল্পনা উস্কে দিয়েছিলেন তিনি নিজেই। শুভেন্দু বলেছিলেন, নন্দীগ্রামের থেকে ভাবনীপুরে জেত অনেক সহজ । কারণ এই এলাকায় অবাঙালি ভোটারের সংখ্যা অনেক বেশি।
রবিবার অর্থাৎ ২৩শে ফেব্রুয়ারি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে একটি সম্মেলন করেন বাংলায় বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ‘ভুতুড়ে’ ভোটার নিয়ে হইচইয়ের আবহেই ফের উঠল এনআরসি-র প্রসঙ্গ। আবারও এনআরসি-র দাবি তুললেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বেআইনি ভোটার রয়েছে। নাহলে শাদ রাডির মতো ‘জঙ্গি’ ভোট দিল কীভাবে? একই সঙ্গে তাঁর দাবি, উত্তরাখন্ড-গুজরাটে ইতিমধ্যেই এনআরসি হয়েছে।
পাশাপাশি বাংলায় এনআরসি কেন করা হবে না সেই প্রশ্ন তুলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “উত্তরাখণ্ড করেছে, গুজরাট করেছে, মহারাষ্ট্র শুরু করেছে। অন্য রাজ্যও করছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি এই কাজ শুরু করেছে। আমাদের বাংলা বর্ডারিং স্টেট। আমাদের পাশেই বাংলাদেশ-নেপাল-ভূটান। আমরা এনআরসি করে কে ভারতীয় নাগরিক আর কে নয় তা চিহ্নিত করে দিই।” প্রসঙ্গত, গত বছরের মার্চ মাসে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “বিজেপির খেলা হচ্ছে হিন্দুতে হিন্দুতে ভাগ করে দেওয়া, মুসলিমে মুসলিমে ভাগ করে দেওয়া। বলুন আফগানিস্তান কী করে এল? মায়ানমার কেন এল না? এটা তো ভারতের বর্ডার। যেগুলো ভারতের বর্ডার সেগুলি হল না। সব কিন্তু রাষ্ট্রহীন হয়ে যাবে। এই ক্যা এনআরসির সঙ্গে যুক্ত মনে রাখবেন। ইয়ে পলিটিকাল খেলা। ইসকো বাদ চল আয়েগা এনআরসি।”
শুভেন্দু অধিকারীর প্রশ্ন, “আমাদের প্রশ্ন শাদ রাডি ভোট দিল কীভাবে? এই রাজ্যে বেআইনি ভোটার আছে, রোহিঙ্গা আছে। এখানে নির্বাচন কমিশনের কোনও রোল নেই।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের পরই ভোটার তালিকা যাচাই শুরু করে প্রশাসন। বেশ কিছু জেলায় ইতিমধ্যেই ভুতুড়ে ভোটারের তালিকা ধরা পড়েছে বলে অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগেই বারুইপুরের চম্পাহাটি পঞ্চায়েতের ভোটার তালিকার স্ক্রুটিনি করা হয়।
দেখা যায়, যে পঞ্চায়েত এলাকায় ভোটার সংখ্যা ছিল সাড়ে ১৮ থেকে ১৯ হাজারের মতো, তা বেড়ে ২২ হাজার ৪০০ হয়ে গিয়েছে। এক বছরের কম সময়ে একই এলাকায় এত ভোটার বাড়ল কী করে? শুরু হয়েছে শোরগোল।