রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
পশ্চিমবঙ্গে টোটো চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক চলছে। গ্রামীণ ও শহুরে রাস্তায় দেদার টোটো চললেও এর অধিকাংশই ছিল নিয়মবহির্ভূত। এ বার পরিবহণ দফতর নতুন নীতি কার্যকর করে টোটো চলাচলে শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ নিয়েছে।
বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন ও নম্বরপ্লেট
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি টোটো চালকের জন্য জেলা স্তরে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। প্রতিটি টোটোকে নির্দিষ্ট নম্বর প্লেট দেওয়া হবে, যেখানে কিউআর কোড থাকবে। স্ক্যান করলেই জানা যাবে নির্দিষ্ট রুটের টোটো অন্য রুটে চলছে কি না। একইসঙ্গে, এক ব্যক্তির নামে একাধিক টোটো রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে।
নির্দিষ্ট রুট ছাড়া চলাচল নয়
শহর ও গ্রামে এলোমেলোভাবে টোটো চলাচল করে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছিল, তা রুখতে নতুন নীতি বলবৎ করা হয়েছে। এখন থেকে টোটো কেবলমাত্র নির্দিষ্ট রুটে চলতে পারবে। প্রতিটি পুরসভা ও পঞ্চায়েত ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে রুট নির্ধারণ করা হবে। যেখানে টোটোর সংখ্যা বেশি, সেখানে রোটেশন পদ্ধতিতে চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রাজস্ব আয়ের নতুন পথ
এত দিন পর্যন্ত টোটো থেকে সরকারের কোনও রাজস্ব আসত না। এবার থেকে প্রতি বছর টোটোর জন্য বার্ষিক কর নেওয়া হবে। ফলে রাজ্যের বাড়তি রাজস্ব আয় হবে বলে আশাবাদী প্রশাসন। পাশাপাশি, বেআইনি টোটোর সংখ্যা কমিয়ে ধীরে ধীরে ই-রিকশা চালু করারও পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় ও রাজ্য সড়কে কড়া নিষেধাজ্ঞা
নতুন নীতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় টোটো, অটো বা রিকশা চলতে পারবে না। বাস্তবে আগে এই নিয়ম কার্যকর না হলেও এ বার কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে দফতর। এই সিদ্ধান্তে যানজট কমবে ও দুর্ঘটনার আশঙ্কাও হ্রাস পাবে।

যাত্রীসুরক্ষা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য
পরিবহণ দফতর, জেলা প্রশাসন, পুরসভা, টোটো সংগঠন ও পুলিশের যৌথ আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে—
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
যানজট রোধ করা
রাজ্যের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা
সরকারের আশা, নতুন নীতি কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গে টোটো চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং বহু দিনের বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটবে।