সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্দরে আসতে চলেছে ঐতিহাসিক পরিবর্তন। রাজ্যের আইনসভার কাজকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তি-বান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে বড় ঘোষণা করলেন বিধানসভার স্পিকার। আগামী ১০০ দিনের মধ্যেই বিধানসভাকে সম্পূর্ণ ‘ই-বিধানসভা’ বা পেপারলেস করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য।
স্পিকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৮ জুন থেকে বিধানসভার অধিবেশনের সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। সাধারণ মানুষ সরাসরি দেখতে পাবেন অধিবেশনের অন্দরমহলে কী ধরণের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এতে স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
সংসদ এবং সকল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভাকে ‘ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘নেভা’-য় আগেই শামিল হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যে পালাবদলের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী দিনে এ রাজ্যের বিধানসভার কাজকর্মও ‘পেপারলেস’ হবে বলে জানালেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু।
পাশাপাশি তিনি জানান, বিধায়কদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। তার জন্য রাজ্যে আসবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও। স্পিকার বলেন, ‘এ বার বিধানসভায় অন্তত ২০০ জন নতুন বিধায়ক। তাঁদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হবে। বাজেট অধিবেশনের পর প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করা হবে। লোকসভার স্পিকার ছাড়া উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানের অধ্যক্ষরাও আসবেন প্রশিক্ষণ দিতে।’

রাজ্যজুড়ে সাড়ম্বরে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’
রাজ্যের গৌরবময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং রাজ্যের জন্মলগ্নের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এক বিশেষ উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ২০ জুন যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হতে চলেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’। গত ৩ জুন রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, ১০ জুন রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজ্যের সমস্ত জেলা সদর দপ্তর এবং সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশিকায় মূলত যে বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, বাংলার সুদীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে জেলা পর্যায়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। যে আইনসভাগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আজকের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পথ চলা শুরু হয়েছিল, সেই গুরুত্বকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের রাজ্যের ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।