সোনম ওয়াংচুক ইস্যুতে মমতার কড়া বার্তা: ‘যে সরকার বিরুদ্ধ মতকে হুমকি ভাবে, তাকে বিশ্বাস করা যায় না’
শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
‘যে সরকার বিরুদ্ধ স্বরকে গণতন্ত্রের অংশ হিসাবে না দেখে হুমকি হিসাবে দেখে, সেই সরকারকে অন্তত বিশ্বাস করা যায় না।’ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করার পাশাপাশি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা দাবিতে অনশনরত সমাজকর্মী এবং বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুকের অনশন জোর করে ভাঙ্গিয়ে হাসপাতালে যেভাবে কেন্দ্রীয় সরকার ভর্তি করে দিয়েছে এভাবেই তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (Sonam Wangchuk)
পুলিশ সূত্রের দাবি, দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতেই শনিবার সকালে ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ দাবি করছে, সবটাই হয়েছে হাই কোর্টের রায় কার্যকর করতে এবং মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো। কিন্তু এভাবে সোনমকে হাসপাতালে সরানোয় তীব্র আপত্তি জানালেন কালীঘাট তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দরকারে সোনমকে বেসরকারি হাসপাতালে সরানো হোক। এই সরকারকে বিশ্বাস করা যায় না।
সোনমকে হাসপাতালে সরানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা এবং সুস্থতা নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। উনি তো শুধু সরকারের সঙ্গে আলোচনা চেয়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে অনশন করেও সরকারের নীরবতা ছাড়া কিছুই পাননি। ঠিক যেভাবে দেশের হাজার হাজার ছাত্র-যুবর প্রশ্নে সরকার নীরব রয়েছে, সেভাবেই। গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত। এভাবে নীরব থাকা যায় না।’

এখানেই না থেমে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করে মমতা বলেন, ‘সোনমকে অবিলম্বে বেসরকারি হাসপাতালে সরানোর অনুমতি দেওয়া হোক। দরকারে আমজনতা খরচ চালাবে। আসলে জনগণের আস্থা অর্জন করা যায় শুধু দায়িত্ববোধ এবং গণতন্ত্রকে সম্মান করে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে এভাবে দমন করে নয়। যে সরকার বিরুদ্ধ স্বরকে গণতন্ত্রের অংশ হিসাবে না দেখে হুমকি হিসাবে দেখে, সেই সরকারকে অন্তত বিশ্বাস করা যায় না।’