সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোন অভিনেতা বা অভিনেত্রী নয়, সোনারপুরের মধ্যে থেকেই বেছে নেওয়া হোক 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী। যিনি এলাকার মানুষকে চেনেন এবং যাকে এলাকার মানুষ চেনে।
এমন কোন ভুমিপুত্র বা ভূমিকন্যাকেই করা হোক সোনারপুরের মানুষের প্রতিনিধি। ভোট ঘোষণার আগেই এমন দাবি তুলে তালিকাটা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ক্যামাক স্ট্রীটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে চিঠি পাঠালেন সোনারপুরের তৃণমূল নেতৃত্বের একটা বড় অংশ।
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোনারপুর দক্ষিণের প্রার্থী করে পাঠিয়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা সিরিয়াল অভিনেত্রী লাভলী মৈত্র ওরফে অরুন্ধতী মৈত্রকে।
ট্রাডিশনাল এই অর্থাৎ সেই সিপিএম জমানা থেকে সোনারপুর দক্ষিণের মানুষ বরাবর ভোট দিয়ে এসেছেন তৃণমূলকেই।
SIR-এ ১.২০ কোটি নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা! ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা
সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা প্রসঙ্গে ওয়াকিবহাল মহলের বিশেষজ্ঞরা প্রায়শই মজা করে বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সোনারপুর দক্ষিণে তাঁর গাড়ির চালককেও দাঁড় করিয়ে দেন প্রার্থী হিসেবে তিনিও অন্তত এক লক্ষ ভোটে জিতে আসবেন।
কিন্তু বিগত লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকে যেন ধীরে ধীরে বদলে গিয়েছে এই ছবিটা। গত কয়েক বছরে যেভাবে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে একের পর এক অভিনেত্রীকে সাংসদ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভায় বিধায়ক করেছেন লাভলী মৈত্রকে। যারা এলাকা যেমন চেনেন না ঠিক তেমনভাবেই এলাকার সাধারণ মানুষ নির্দ্বিধায় পৌঁছতে পারেন না বিধায়কের কার্যালয় অথবা সাংসদ কার্যালয়ে।
আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে এলাকায় প্রমোটার এবং বিল্ডিং মেটিরিয়াল ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য। সাধারণ মানুষের আপত্তি অথবা অপছন্দকে পাত্তা না দিয়েই সোনারপুরে বিধায়কের কার্যালয়ের সামনের রাস্তা কার্যত চলে গিয়েছে প্রোমোটারদের দখলে। মূল সড়কের পাশেই বিধায়ক ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলর এবং নেতাদের উপস্থিতিতে চলছে একের পর এক পুকুর ভরাটের ঘটনা এবং হাজারে হাজারে বেআইনি নির্মাণ।
কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভার নির্বাচনে সোনারপুর দক্ষিণে তৃণমূলের সঙ্গে প্রধান বিরোধী দল বিজেপির ব্যবধান কমতে কমতে এসে পৌঁছেছে মাত্র হাজার দশেক ভোটের।
এই পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন সোনারপুরের বিজেপি নেতৃত্ব নতুন উৎসাহে ভর করে জোরদার লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুকুর ভরাট বেআইনি নির্মাণ এবং এলাকার তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে, ঠিক তেমনভাবেই দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্ত তৃণমূল নেতাকর্মী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তথা তৃণমূলকে ভালোবেসে রাজনীতি টা করে আসছেন তারা চাইছেন অন্তত প্রার্থীবদল করে সাধারণ মানুষের কাছে তৃণমূলের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবেদন জানিয়েই তারা চিঠি দিয়েছেন এবং কালীঘাটে।

যদিও সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক লাভলী মৈত্রের ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি তারা ইতিমধ্যেই গ্রীন সিগনাল পেয়ে গিয়েছেন এবারের ভোটেও লাভলী মৈত্র সোনারপুর দক্ষিণের প্রার্থী হবেন বলে। তাই কয়েক জায়গায় দেওয়ার লেখার কাজও শুরু করা হয়েছে লাভলী মৈত্রের সমর্থনে।